বিয়ের আগে যা জানা জরুরি

বিয়ে নামক এই সম্পর্কটি আজীবনের। ডিভোর্স শুনতে যতই সহজ মনে হোক না কেন, এটি আসলে মারাত্মক কঠিন একটি ব্যাপার। আর তাই, বিয়ে করার আগে অবশ্যই জেনে-বুঝে, যাচাই করে বিয়ে করা উচিত। তাই কিছু ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে মোটেও বিয়ে করবেন না।

 ধর্মের প্রতি গুরুত্ব:

ছেলে মেয়ে যে ধর্মেরই হোন না কেন? নিজেদের ধর্মের প্রতি নিজেদের কতটুকু গুরুত্ব আছে, আগে সেটা যাচাই করে নিন। কারণ যে ব্যক্তি নিজের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সেই ছেলে কিংবা মেয়ে কোনোদিনও খারাপ হতে পারে না।

স্ব-স্ব ধর্ম পালনে যে দায়িত্বশীল, সংসার করতেও সে দায়িত্বশীল হবে সেটি বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর যে নিজের ধর্মের প্রতি উদাসীন, যে ব্যক্তি সৃষ্টিকর্তার কৃতজ্ঞতাই স্বীকার করে না, সে আপনার প্রতি কতটা যত্নশীল হবেন, সেটি ভেবে-চিন্তেই সিদ্ধান্ত নিন।

মন-মানসিকতা:

বিয়ের আগে অবশ্যই দুজনের মনমানসিকতা যাচাই করে নিন। ভালো মন-মানসিকতা সংসারকে টিকিয়ে রাখতে এবং সুখে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যাকে জীবনসঙ্গী করবেন তার কিংবা শ্বশুর-শাশুড়ির মন-মানসিকতা কেমন সেটিও যাচাই করা উচিৎ।

কারণ ছেলের বউ ও তার শ্বশুর-শাশুড়ি, এবং মেয়ের স্বামী ও তার শ্বশুর-শাশুড়ি। সংসার টেকসই করতে এই ছয়জনের মন-মানসিকতা অবশ্যই পরিষ্কার হওয়া উচিত। এই কয়জনের মধ্যে কারো আচরণ খারাপ হওয়া মানে আপনার ধানের গোলায় ইঁদুর ঢোকার সমান।

আপনাদের পরিবার কেমন :

বিয়ে মানে দুটি মানুষের মিলন, কিন্তু তার চাইতেও বর বিষয় হচ্ছে পরিবার। আপনারা পরস্পরকে যতই ভালোবাসেন না কেন, পরিবার যদি ভালো না হয় তাহলে বেশিদিন শান্তিতে বাস করতে পারবেন না। এক পরিবারের কারণেই বহু সংসার ভেঙে যায়। তাই বিয়ের আগেই যাচাই করে নেবেন যে আপনাদের দুজনের পরিবার কেমন এবং তাদের সাথে আপনাদের মিলবে কিনা।

তিনি আপনাকে চান? নাকি আপনার রূপ:

বিয়ের আগে এটা অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে তিনি আসলে কেন আপনাকে বিয়ে করছেন? তিনি কি আপনার রূপে পাগল হয়ে বা আপনার টাকার মোহে আপনাকে বিয়ে করতে চলেছেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, জেনে নেবেন যে এমন মানুষের সাথে জীবনেও সুখী হবেন না আপনি আর জীবনেও তার কাছ থেকে ভালোবাসা পাবেন না।

বিয়ের পর উপার্জনের উৎস :

টাকা দেখে বিয়ে করা যেমন বাজে কাজ, একই ভাবে বিয়ের আগে উপার্জনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই বিয়ে করে ফেলাটা বোকামি। আগে ভালো মত ভেবে দেখুন বিয়ের পর আপনাদের সংসার চলবে কীভাবে। একই সাথে হবু স্বামী/স্ত্রী কোন অন্যায় কর্মে যুক্ত আছেন কিনা সেটাও যাচাই করে নিন।

অসুখ বিসুখের ইতিহাস :

পরিবারে কোন জেনেটিক রোগ বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস আছে কিনা সেটা অবশ্যই ভালো করে জেনে নেবেন। একই সাথে সবচাইতে ভালো হয় বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা সহ একটি সম্পূর্ণ চেকাপ দুজনেই করিয়ে নিলে। এতে ভবিষ্যতের অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।

দু-জনের চাওয়া-পাওয়া :

কেবল বিয়ে করলেই তো হবে না, মিলতে হবে দুজনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও। জীবন থেকে আপনারা কী চান, কীভাবে চান নিজেদের ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিয়ের আগেই নিশ্চিত হয়ে নিন।

যাচাই করতে হবে বন্ধু-বান্ধবকে :

একজন মানুষ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায় কেবল মাত্র তার বন্ধু বান্ধবের পরিধি দেখে।তাই বিয়ের আগে জীবনসঙ্গীর বন্ধু বান্ধবকে অবশ্যই যাচাই করে নেবেন আর তাতেই মানুষটা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন। যে মানুষের বন্ধুরা ভালো নয়, তিনি থুব একটা ভালো মনের মানুষ হতে পারেন না।

টুকটাক রান্না শিখে নিন :

আপনাকে পুরোদমে রান্না শিখতে বলা হচ্ছে না, খুব কমন কিছু রান্না শিখে নিলে বিয়ের পর স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দিতে কাজে লাগাতে পারবেন। এবং স্ত্রী যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন তাকে কিছুটা সাহায্য করে ইমপ্রেসও করতে পারবেন।

Back to top button