সুবহার আরও এক স্বামীর সন্ধান!

গত বছরের শেষের দিকে মডেল ও অভিনেত্রী শাহ হুমায়রা সুবাহকে বিয়ে করেছিলেন দেশের সুপরিচিত গায়ক ইলিয়াস হোসাইন। তাদের দাম্পত্য জীবনের এক মাস অতিক্রম না হতেই বেঁজে ওঠে ভাঙনের সুর। এরপর ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আনেন সুবাহ। এমনকি এই গায়কের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করেন সুবাহ। সুবাহর বিরুদ্ধেও পাল্টা মামলা করলেন ইলিয়াস। তাদের দাম্পত্য কলহ এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

এখানেই শেষ না, ইলিয়াস-সুবহার খবরে মাঝে নতুন খবর বেরিয়ে আসে। সূত্রে জানা গেছে, অভিনেত্রী শাহ হুমায়রা সুবাহার আরও এক স্বামীর কথা। বিয়ের কাবিন নামা বিডি২৪লাইভ’র হাতে না আসলেও হাতে এসেছে ২০১৭ সালে সুবহার করা একটি এজাহার পত্র। শাহ হুমায়রা সুবাহার নিজের দায়ের করা গাইবান্ধা থানায় ওই এজাহার পত্রে তিনি মোঃ ইয়াসির আরাফাত নামে এক ব্যক্তিকে নিজের স্বামী পরিচয়ে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন।

সুবাহার করা এজাহার পত্রটি হুবহু তুলে ধরা হচ্ছে:

‘বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মোছাঃ হুমায়রা হোসেন সুবহা (২০), স্বামী-মোঃ ইয়াসির আরাফাত, সাং পাড়া, থানা ও গো-গাইবান্ধা, এই মর্মে আসামী ১। মোঃ মোমান সরকার (২৭), পিতা-মোঃ সামজ্জামান সরকার, কোমরনই মিয়াপাড়া (মিয়াপাড়া বাজারের বাম পার্শ্বে), ২। মোঃ মাহফুজা (২৬), পিতা (খন্দকার মোড়), ৩। মোঃ আল ইমরান (২২), পিতা- মো: আকরুজ্জামান, সাং- তোমরাই (কদমেরতল), এজাহার করিতেছি যে, আসামীগন পরস্পর ঘনিষ্ট বন্ধু। আমি গত ১ মাস পূর্ব হইতে ২০২ আসামীর মোছার পাখি বিউটি পার্লার, সালিমার সুপার মার্কেট, ৩য় তলা, গাইবাছায় পার্লারের কাজ শেখার জন্য ভর্তি হই। পার্লালে কাজ করার সুবাদে ২নং আসামীর সহিত আমার পরিচয় হয়। ১০ ৩নং আসামীদ্বয় ২নং আসামীর ঘনিষ্ট বন্ধু যায় আমার সহিত পরিচয় হয়।

১নং আসামী ২নং আসামীর কাছ থেকে আমার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এবং বিভিন্ন ও সময়ে আমাকে ফোন করিয়া কথাবর্তা বলিত। এভাবে চলিয়া আসিতে থাকাকালে গত ইং-২৫/০৮/১৭ তারিখ অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় ১নং আসামী মোবাইল নং-০১৭১৯-***১০২, ০৩-২০১৭ ৭-৮৮৪৮২২, ০১৯**-৪**১২২ হইতে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর-০***৮-২১৯১০৭ ***৩-১৮০৭০৫ এ ফোন করিয়া আমাকে বলে যে, “আজ শুক্রবার পার্লার বন্ধ থাকবে, তুমি পাখি আপার বাসায় আসে তা নাকে পাখি আগা বাসায় কাজ শেখাবো।

আমি ১নং আসামীর কথামত সরল বিশ্বাসে বাসা হইতে অটোরিক্সাযোগে : আসামীর বাড়ীতে এগুলা দেই। আমি ইং-২৫/০৮/১৭ তারিখ সকাল অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় ২নং আসামীর পৌঁছাই। আমি ২নং আসামীয় বাসায় যাওয়ার পর আসামীগনকে ২নং আসামীর শয়ন ঘরে দেখিতে পাই এবং ২/৩ জন আসামীকে বাড়ীর বাহির আঙ্গিনায় দেখিতে পাই।

আমি আসামীগনকে ২নং আসামীর স্ত্রী পাখি আপা থোয় গেছে জানিতে চাহিলে ১নং আসামী আমাকে জানায় যে, সে বাহিরে গেছে তোমাকে ঘরে বসতে বলিয়াছে। আমি ২নং আসামী শান ঘরে ঢোকার আগেই ২৩ নং আসামীর ঘর হইতে বাহির হইয়া বাহির আঙ্গিনায় অজ্ঞাতনামা আসামীগনের সহিত মিলিত হয় এবং আমি সরল বিশ্বাসে ২নং আসামীর শয়নঘরে প্রবেশ করি। আমি ২নং আসামীর শানে ঘরে প্রবেশ করিয়া ১নং আসামীর সহিত কথাবার্তা বলাকালে কিছুক্ষন পর ১নং আসামীর ঘরের দরজা লাগাইয়া দেয়।

আমি ঘরের দরজা লাগাইয়া দেওয়ার কারন জিজ্ঞাসা করিলে ১ আসামী আমাকে বিভিন্নভাবে প্রণোষন দিতে থাকে। পয়ে ইং-২৫/০৮/১৭ তারিখ বেলা অনুমান ১১.৪০ ঘটিকার সময় ১নং আসামী আমাকে প্রলোভন দিয়া আমার সহিত ১ সৌহিক মেলামেশা করে। ইং-২৫/০৮/১৭ তারিখ অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকার সময় ১নং আসামী আমাকে মোবাইল ফোনে জানায় যে, অন্যান্য আসামীগনের সহায়তায় আমার অগ্নিল ভিডিও চিত্র গোপনে ধারন করিয়াছে আমি যদি বিবার তথ্য ইং-২৭/০৮/১৭ তারিখ তাহার সহিত ২নং আসামীর বাড়ীতে গিয়া দেখা না করি তাহালে আমার অশ্লীল ভডিও ইন্টারনেটে ছাড়িয়া দেখে আমার মর্যদা হানি করিবে মর্মে ভয়ভীতি ছনকী প্রদান করে এবং আমার মোবাইল ফোনে-ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ পাঠাইতে থাকে।

সেই সাথে আমি যদি তাহার সহিত দেখা করি তাহলে আমার অগ্নিণ ভিডিও লেট করিয়া দিবে। আমি ১নং আসামীর কথা বিশ্বাস না কারিলে ঐ তারিখ রাত্রী অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় নাগামী ৩নং আসামীর মাধ্যমে আমাকে ১টি মেমোরী কার্ড ও হাতে লেখা চিঠি পাঠাইয়া দেয়। চিঠির মধ্যে আমার অভিন ও করা সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকী প্রদানের বিষয় লেখা আছে। আমি মেমোরী কার্ড পাওয়ার পর মেমোরী কার্ডে আমার এগ্নিল ভিডিও চিত্র দেখিতে পাই।

পরে আমি নিজের সম্মানের ভয়ে পরিবারের কাউকে কিছু না জানাইয়া গত ৭/০৮/১৭ তারিখ বেলা অনুমান ১২.৩০ ঘটিকার সময় ২নং আসামীর বাড়ীতে যাই এবং ২নং আসামীর শরন ঘরে আসামীগনকে দেখিতে পাই। আমাকে দেখিতে পাইয়া ২ ও ৩নং আসামীর ঘর হইতে বাহির হইয়া যায় এবং আসামী আমাকে ঘরের ভিতবে আসিতে বলে।

আমি ঘরের ভিতরে গেলে ১নং আসামী আমাকে জানায় যে, আমি যদি তাহার সহিত মেলামেশা না করি তাহলে আমার অশ্লিল ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়িয়া দিবে এবং মেলামেশা করিলে আমার ভিল ভিডিও ডিলেট করিয়া দিবে বলিয়া ইং-২/০৮/১৭ তারিখ বেলা অনুমান ০১.০০ ঘটিকার সময় আসামী আমার অমিল ভিডিও প্রকাশের হুমকী ও মানসিক নির্যাতন করিয়া পুনরায় গোপনে অশ্লীল ভিডিও উৎপাদন/ধারন করে এবং পরে আমাকে বিদায় তুলিয়া দিয়া বাড়ীতে পাঠাইয়া দেয়। পরে ঐ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬:০০ ঘটিকার সময় ১নং আসামী আমাকে মোবাইল ফোনে আনায় যে, সে পরের দিনও আমার অশ্লিল ভিডিও চিত্র ২ ও ৩নং অজ্ঞাতনামা আসামীগনের সহায়তায় ধারন করিয়াছে।

আমি যদি প্রতিদিন তাহার সহিত দেখা না করি, সে যখন টাকা পয়সাসহ যাই চাইবে তাই না সেই তাহলে সে আমার অশ্লিল ভিডিও পর্নোগ্রাফি হিসাবে ইন্টারনেটে হাড়িয়া নিয়ে মর্মে হুমকী প্রদান দিতে থাকে। তখন আমি নিরুপায় হইনা বিষয়টি আমার আমীনে বলি। আমি বিষয়টি আমার পরিবারের লোকজনদের সহিত আলোচনা করিয়া থানায় আসিয়া এক্সাকে পায়ের করিতে বিলম্ব হই অতএব, মহোদয় আমার উপরোক্ত বিষয় তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করিতে আপনার মনে হয়।’

অন্যদিকে, বিডি২৪লাইভ’র এর সাথে আলাপচারিতা হয় গায়ক ইলিয়াসের। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় সুবাহ’র সাথে কিভাবে পরিচয়, বিয়ে এবং অভিযোগ কেন? তিনি বলেন, ২০১৯ সালে সুবহার সাথে আমার পরিচয় হয় একটি রেষ্টুরেস্টে বসে। আমাকে পরিচয় দিয়েছিল সে চলচ্চিত্র নায়িকা হিসেবে। পরবর্তীতে সে আমার ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে এবং বিভিন্ন সময় আমাকে কল করতে থাকে।

এক পর্যায়ে সে আমাকে বলে ক্রিকেটার নাসিরকে সে ভুলতে পারছে না। আমি যদি তাকে সময় দিতে পারতাম সে নাসিরকে ভুলতে পারতো। এই ধরনের কথা বলে আমার কাছে কান্না কাটি করতো নানা সময়। এক পর্যায়ে সে আমাকে বিয়ে করতে চায় ও আমার ফোনে বিয়ের বার্তা পাঠাতে থাকে। নাসিরের বিয়ের ভিডিও যখন প্রকাশ হয় তখন সে আমার উপর বেশি আবেগী হয়ে পড়ে। আমি বিষয়টি বুঝতে পেরে যোগাযোগ বন্ধ রাখি।

এক পর্যায়ে আমার বন্ধু মাধ্যমে জানতে পারি যে সুবহা ঘুমের ওষুধ খেয়েছে সেই সাথে নিজের হাত কেটেছে। আমি তখন স্বাভাবিক ভাবে কথা বলার চেষ্টা করি তার সাথে। এরপর একদিন তার বাসায় ডেকে নিয়ে আমাকে ড্রিংসের মধ্যে চেতনা নাশক ওষুধ দিয়ে আমাকে ব্লাকমেইল করার মত প্রমাণ সংগ্রহ করে রাথে। এবং তা দেখিয়ে আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে। বিয়ের কাবিন করে ৭,৭৭,৭৭৭/= (সাত লক্ষ সাতাত্তর হাজার সাতশত সাতাত্তর) টাকা।

বিয়ের পর থেকে সুবাহার টাকার প্রতি চাহিদা বাড়তে থাকে। এই ভাবে চলতে থাকলে আমি এক পর্যায়ে তার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিতে থাকি। তখনই তার তেলে জল ঢেলে যায়। আমি গণমাধ্যমে এর বেশি আর বলতে পারবো না। যা বলার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য প্রমাণসহ জমা দিয়েছি। আপনারা খুব তাড়াতাড়ি সব কিছু জানতে পারবেন।

তিনি বলেন, দেখুন, আমি প্রথমেই বলেছি আমাদের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়নি। সুবাহ আমার নামে যেসব তথ্য প্রকাশ করছে তা সবই মিথ্য ও ভিত্তিহীন। বিয়ের দিন সুবহার মাসহ কয়েক জন থাকার কথা থাকলেও ওই দিন উপস্থিত ছিল ৪০/৪৫ জন। উপস্থিত সবাইকে তার পরিবারের সদস্য বলে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আর ডির্ভোস বা তার সাথে না থাকার বেপারটা নিয়ে আমি আইনি সহযোগীতা চেয়েছি। আইন কি সিদ্ধান্ত দিবেন সেই অপেক্ষায়।

এই বিষয়ে সুবহা বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘এসব মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার কিছুই করতে পারবে না কেউ। এসব করে আমাকে শুধু ভাইরাল করতে পারবে। আমার কিছুই হবে না, ইনশাহ আল্লাহ। পরিমনির ও কেউ কিছু করতে পারেনি, নিজে ঠিক তো দুনিয়া ঠিক।’

অন্যদিকে আজ মঙ্গলবার সুবহা নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। যেখানে তিনি লিখেন, “ও এখন পাগলা কুকুর হয়ে গেছে, আমাকে নিয়ে যত বেশি মিথ্যা প্রচার করা হবে তত বেশি ভাইরাল হব। আমার ৪টা বাচ্ছাও আছে তাতে কার বাবার কি ! আর যতই নাটক করো আর যতই কাহিনীর রটাও দেনমোহ না দেয়ার ভয়ে,,কোন লাভ নাই মামলা তুলবো না হাহাহাহাহাহা”

সুত্রঃ .bd24live.com

Back to top button