চ্যাম্পিয়নস লীগ থেকে বিদায় নিলেন রোনালদোও

দিন কতক আগে চ্যাম্পিয়নস লীগ থেকে বিদায় নেন লিওনেল মেসি। পতন ঘটে এক ঝাঁক তারকা নিয়ে সাজানো পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লীগ স্বপ্নের। এবার সেই একই পথে হাঁটলেন মেসির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও। চ্যাম্পিয়নস লীগের শেষ ষোলোর খেলায় ডিয়েগো সিমিওনের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

দিনটা আবারো ভালো যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন রোনালদো। শত সমালোচনার মাঝেই লীগের ম্যাচে হ্যাট্রিক করে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হলেন। সেই আশাতেই চ্যাম্পিয়নস লীগের শেষ ষোলর ম্যাচে নেমেছিলেন এই চ্যাম্পিয়নস লীগ কিং।

যদিও দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ গোলের ব্যবধানে বাড়ির পথ ধরে রোনালদোর দল। ম্যাচটি জিতলে নিজের আরেকটি রেকর্ড আরো ভালো করে রাঙ্গাতে পারতেন এই ফুটবলার। ইকার ক্যাসিয়াসকে টপকে চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বেশি সময় খেলার রেকর্ড এখন ইউনাইটেড তারকার।

চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউট ম্যাচে এক মিনিটের জন্য মনোযোগ সরে গেলেও কী হতে পারে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের স্বাগতিক সমর্থকেরা ততক্ষণে বুঝেছেন। কোলাহলে ভাটার টান। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে গোল হজম কার ভালো লাগে!

৪১ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে ইউনাইটেড উইঙ্গার অ্যান্থনি এলাঙ্গা গতির সঙ্গে পারেননি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের দুই খেলোয়াড়। কিন্তু বিপদসীমার মধ্যে ঢোকার আগেই তাকে বৈধভাবে ফেলে দেন মাদ্রিদের রেইনালদো মানদোভা।

নিশ্চিত ফাউল ভেবে হ্যারি ম্যাগুয়ার, জেডন সানচোরা দাঁড়িয়ে পড়লেও রেফারি বাঁশি বাজাননি। সুযোগটা দুই হাতে লুফে নেন জোয়াও ফেলিক্স-আঁতোয়ান গ্রিজমানরা। ফেলিক্সের ব্যাক হিল থেকে বাঁ প্রান্তে গ্রিজমানের ক্রস, ফাঁকায় সম্পূর্ণ অরক্ষিত দাঁড়িয়ে থাকা ব্রাজিলিয়ান লেফটব্যাক রেনান লোদি শুধু হেডে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন। গোলের আসল ‘কারণ’ তো ফাউলের আবদার!

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শেষ পর্যন্ত এই গোলটাই কাল হয়। ঘরের মাঠে শেষ ষোলো ফিরতি লেগে ১-০ গোলের হারে বিদায় নিতে হলো চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। মাদ্রিদের ক্লাবটির মাঠে প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র করে ইউনাইটেড।

অথচ রাংনিকের দলের শুরুটা ছিল দারুণ। অলআউট আক্রমণে মজেছিলেন জেডন সানচো-ডিওগো দালতরা। ১৩ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে এলাঙ্গার গোলের সুযোগ পাওয়া তারই ফসল।পা ছোয়ালেও অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন অ্যাটলেটিকো গোলকিপার ইয়ান ওবলাক। দারুণ এক ম্যাচ গেল এই স্লোভেনিয়ানের। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মুহূর্তখানেক আগে ফার্নান্দেজের বাতাসে ভাসানো গোলা দারুণভাবে ঠেকান ওবলাক।

প্রতিপক্ষ কোচের জালে গোল করেও সিমিওনের তেমন ভাবান্তর না ঘটার কারণ ছিল। ৩৪ মিনিটে আবারও ইউনাইটেড বক্সের ফাটল গলে পাসে পাসে আক্রমণ গড়েন ফেলিক্স ও মার্কোস লরেন্তে। ডান পাশ থেকে লরেন্তের ক্রসে ফেলিক্স পা ছুঁয়ে গোল করলেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। অ্যাটলেটিকো কোচের চোখেমুখে তখন তাকানো যাচ্ছিল না।

কিন্তু গোলের বিশ্বাসটা বোধ হয় সিমিওনের ছিল। ইউনাইটেডের রাফায়েল ভারান, হ্যারি ম্যাগুয়ার, অ্যালেক্স তেয়োসরা রক্ষণ ভাগ থেকে একটু ওপরে উঠে খেলেছেন। গতি ও দ্রুতগতির পাসে তাঁদের পেছনে ফেলার সুযোগ পেয়েছে আতলেতিকোর আক্রমণভাগ।

ইউনাইটেড প্রথমার্ধের ত্রিশ মিনিটের মধ্যে বেশ কয়েকটি আক্রমণ করেছে। এই সুযোগে ওপরে ওঠা ইউনাইটেড রক্ষণভাগকে গ্রিজমান-ফেলিক্সরা যে ফাঁকি দিতে পারবেন, সে বিশ্বাসটা সিমিওনের ছিল। রেনান লোদির চ্যাম্পিয়নস লিগ ক্যারিয়ারে প্রথম গোলেও তাই সিমিওনে ছিলেন নিরুত্তাপ, যেন গোল হতোই!

গোলের খোঁজে বিরতির পর মার্কাস রাশফোর্ড, পল পগবা ও এডিনসন কাভানিকে নামান রাংনিক। বল দখলে রেখে আতলেতিকো বক্সের সামনে চাপ বিস্তার করে খেলেও গোল পায়নি ইউনাইটেড।এর মধ্যে ভারানের দারুণ হেড রুখে দেন ওবলাক। ইউনাইটেড গোলকিপার ডেভিড দি হেয়া প্রথমার্ধে দারুণ একটা শট ঠেকালেও বিরতির পর তাঁর তেমন পরীক্ষা নিতে পারেনি আতলেতিকো। শৃঙ্খলা বজায় রেখে রক্ষণকাজে নেমেছেন স্তেফান মাতিচ-কোকেরা।

ম্যাচের শেষ দিকে প্রায় ৩ হাজার আতলেতিকো সমর্থক গান ধরেছিল। ধারাভাষ্যকার বলছিলেন, সুরে সুরে ‘জব ইজ ডান ! জব ইজ ডান!’ গাইছেন আতলেতিকোর সমর্থকেরা। তাই তো!মাঠ প্রতিপক্ষের, বেশির ভাগ দর্শকও শত্রুভাবাপন্ন, কিন্তু মাথা ঠান্ডা রেখে নিজেদের কাজটা করতে পারাটাই তো নকআউট রাউন্ডের চ্যালেঞ্জ। আতলেতিকো ঠান্ডা মাথায় সুযোগের স্বদব্যহার করেই জিতেছে।

Back to top button