মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের গুঞ্জন

গতকাল ১৪ দলের সঙ্গে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকের পর পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে যে, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং ১৪ দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার তাগিদ দিয়েছেন, সেজন্য মন্ত্রিসভায় ১৪ দলের দুই-একজন প্রতিনিধিকে হয়তো তিনি নিতে পারেন এবং এই মন্ত্রিসভার রদবদল খুব শিগগিরই হতে পারে বলেই অনেকে ধারণা করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে সরকার কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে। আর এই অস্বস্তি কাটিয়ে ফেলার সবচেয়ে বড় উপায় হলো মন্ত্রিসভার খোলনলচে বদলে ফেলা। আর এই বদলে ফেলার মাধ্যমে সরকারের একটা নতুন অবয়ব হয় এবং এর মাধ্যমে চাপ হ্রাস করা যায়। এটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি অতি পরীক্ষিত পুরনো সূত্র। সেই সূত্রই প্রধানমন্ত্রী অনুসরণ করবেন কিনা সেটি তার সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের মন্ত্রিসভা রদবদল নিয়ে এখন সরগরম আলোচনা চলছে।

একাধিক সূত্র বলছে যে, সরকারের বর্তমান মন্ত্রিসভার একটি রাজনৈতিক চরিত্র দেওয়াটা জরুরি। বর্তমানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি মন্ত্রিসভায় কম। এমনকি ২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ আনকোরা নতুনদের দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিল তখনও বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবুল মাল আবদুল মুহিত, নুরুল ইসলাম নাহিদদের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিরা মন্ত্রিসভায় ছিলেন।

কিন্তু এবার সেটি নেই বললেই চলে। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে শুধুমাত্র ড. আব্দুর রাজ্জাক, ওবায়দুল কাদের, ড. হাছান মাহমুদ এবং ডা. দীপু মনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এখন মন্ত্রিসভায় আরও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের বাড়ানোর বিষয়টি চিন্তাভাবনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্র বলছেন। তবে এটি একান্তই প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অভিপ্রায়ের ব্যাপার। তবে রাজনৈতিক পাড়ার গুঞ্জনে যে নামগুলো উঠে আসছে, যারা মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন তাদের মধ্যে রয়েছেন,

জাহাঙ্গীর কবির নানক: জাহাঙ্গীর কবির নানক ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাননি। কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়াটা যেন তার জন্য শাপে বর হয়েছে। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন। এখন আওয়ামী লীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। আগামী কাউন্সিলে যাদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ভাবা হচ্ছে তাদের অন্যতম হলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

মাহবুবউল আলম হানিফ: মাহবুবউল আলম হানিফ দীর্ঘদিন ধরেই এমপি আছেন। প্রথম মেয়াদে ২০০৯ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে এবং মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে।

মির্জা আজম: মির্জা আজম আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা। মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তির কথা সবসময় গুঞ্জন হিসেবে থাকে। তিনি ২০১৪ সালে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে এখন তার নামটা আসছে এই কারণে যে, জামালপুরের ডা. মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ফলে মির্জা আজম এখানে মন্ত্রী হিসেবে আসতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের ছাড়া এবার মন্ত্রিসভায় যদি শেষ পর্যন্ত রদবদল হয় তাহলে ১৪ দলের কারো কারো অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ঘুরিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মন্ত্রী করার নীতি গ্রহণ করেছেন গত তিন মেয়াদে, সেই বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি রাজশাহী অঞ্চল থেকে নির্বাচিত এমপি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি রাশেদ খান মেনন এর পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

শিরীন আখতার: শিরীন আখতার জাসদের সম্পাদক এবং গত মেয়াদে যেহেতু হাসানুল হক ইনুকে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সেই জন্যই এবার শিরীন আখতারের বিষয়টি সামনে এসেছে।

তবে এসবই হল গুঞ্জন এবং রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। বাস্তবতা কি সেটা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবেন এবং মন্ত্রিসভা আদৌ রদবদল হবে কিনা সেটিও নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনিচ্ছার ওপর।

সুত্রঃ banglainsider.com

Back to top button