পাকিস্তানও ভারতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে চেয়েছিল

‘দুর্ঘটনাবশত’ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর পাকিস্তানও ভারতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং কীভাবে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল তা দেশটির সংসদে ব্যাখ্যা করার পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্লুমবার্গ তাদের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে—প্রাথমিক তদন্তের ইঙ্গিত ছিল যে, ভুলবশত এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। এবং সে কারণেই পাকিস্তান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেনি।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমানবাহিনী দিল্লি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরবর্তী হরিয়ানার আম্বালা থেকে মাঝারি-পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মস’ নিক্ষেপ করে। সেটি পাকিস্তানে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণের ফলে সেখানকার আবাসিক এলাকায় বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আজকের পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন
ব্লুমবার্গের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে পাকিস্তানকে অবগত করার বিষয়ে ভারত উভয় পক্ষের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগে স্থাপিত সরাসরি হটলাইন ব্যবহার করেনি। পরিবর্তে, বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা আর কোনো উৎক্ষেপণ এড়াতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বন্ধ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

তবে এই বিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী এবং ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কেউই কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।এ দিকে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার গত সপ্তাহের শেষ দিকে সাংবাদিকদের বলেছেন—তাঁরা হরিয়ানার সিরসা থেকে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চান্নুর শহরে যেখানে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি বিস্ফোরিত হয় তার ফ্লাইট ট্র্যাক করেছে।

পক্ষান্তরে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটি’র কারণে দুর্ঘটনাবশত ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছিল। সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘সরকার ঘটনার পর অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিদর্শনের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে। ভারত তার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশিত যে কোনো ফাঁক পূরণ করা হবে।’

এর আগে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেছেন, ‘যদি এটি দুর্ঘটনাবশত না হতো এবং পাকিস্তান বিমানবাহিনীও যদি একইরকম পদক্ষেপ নিত তাহলে পরিণতি “খুব গুরুতর” হতো।’

উল্লেখ্য, জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় ভারতীয় সৈন্য নিহত হওয়ার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক স্মরণকালে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ওই আত্মঘাতী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা করে।

Back to top button