পুতিনের সাথে সরাসরি বৈঠকের ডাক জেলেনস্কির

রুশ অভিযান চলতে থাকার মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।জেলেনস্কি বলেন, তার সাথে পুতিনের বৈঠক ছাড়া এ যুদ্ধ অবসানের ব্যাপারে আলোচনা সম্ভব হবে না। রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়া, ডনবাস অঞ্চল ও ইউক্রেনের নিরাপত্তার গ্যারান্টিসহ সব বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি তৈরি আছেন।

তবে জেলেনস্কি এটিও বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলোকে অবশ্যই একটি গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনের জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। এমন এক সময় জেলেনস্কি এ আহ্বান জানালেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে পুতিনের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে এবং তিনি হয়তো ইউক্রেনে রাসায়নিক বা জীবাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন।

ক্রেমলিন অবশ্য গত সোমবার (২১ মার্চ) বলেছে, এই দুই নেতার মধ্যে সরাসরি বৈঠক হবার মতো অগ্রগতি আলোচনায় এখনো হয়নি। রাশিয়া অভিযান শুরু করার পর ইউক্রেন থেকে ২০ লাখেরও বেশি লোক পালিয়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানায় পোলিশ সীমান্তরক্ষী কর্তৃপক্ষ।

জেলেনস্কি ইতোমধ্যে পোপ ফ্রান্সিসের সাথে কথা বলেছেন এবং আভাস দিয়েছেন যে ভ্যাটিকান হয়তো এ যুদ্ধ মধ্যস্থতার ভুমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া তিনি ভিডিও লিংকে ইতালির পার্লামেন্টেও এক ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, তার দেশ এখন প্রায় চার সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া রুশ অভিযান অতিক্রম করে টিকে থাকার দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে।

তার এই সতর্ক আশাবাদ সত্ত্বেও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী সতর্ক করছে, বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামোর ওপর রাশিয়া তাদের নির্বিচার গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাবে।

ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী মারিওপোল, উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ – এগুলোর আশপাশে এখনো লড়াই চলছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরো বেশি বিস্ফোরণ দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা রুশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে এক পাল্টা অভিযান চালিয়ে কিয়েভের পশ্চিমের মাকারিভ শহরটি পুনর্দখল করেছে।

কিয়েভের কেন্দ্রস্থল থেকে ২৫ মাইল পূর্বদিকের আরেকটি শহর বোরিস্পিলের আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যেই যুদ্ধ চলছে। সেখানকার বাসিন্দাদের ওই অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিয়েভের প্রধান আন্তজাতিক বিমানবন্দরটি এখানেই। মেয়র ভলোদিমির বোরিসেংকো বলেছেন, বেসামরিক লোকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরে যাওয়া উচিত।

এছাড়া রুশ সীমান্ত থেকে ৩০ মাইল দূরের খারকিভ শহরে রুশ বাহিনী অবিরাম গোলাবর্ষণ করছে। সেখানে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০০ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। সূত্র : বিবিসি

Back to top button