কৌশল পরিবর্তনের ঘোষণা পুতিনের

যুদ্ধ কৌশলে পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে পুতিনের নজর এখন পূর্ব ইউক্রেইনের দোনবাস অঞ্চল পুরোপুরি মুক্ত করা। তবে পশ্চিমারা বলছেন, ইউক্রেনে সহজ জয়ের ভাবনায় ধাক্কা খেয়েছে পুতিন। যুদ্ধকৌশল ব্যর্থ হওয়ার কারণে মস্কো এখন নতুন লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলছে। এমনকি ইউক্রেনের শহরগুলোতে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করছে যুক্তরাজ্য।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, তার সেনারা রাশিয়াকে শক্তিশালী আঘাতে মোকাবেলা করেছে।
গেল ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেইনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। এরপর ইউক্রেনে লাগাতার হামলায় নানা অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র কাজে লাগিয়েছে পুতিনবাহিনী। ধ্বংসযজ্ঞ ঘটছে ব্যাপক মাত্রায়। ইউক্রেনে পা রাখার পর থেকেই রাজধানী কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ওপর সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছে রুশ বাহিনী। তবে সেই অভিযানে এখনো সফলতা আসেনি মস্কোর। রুশ বাহিনী কেবল একটি শহর খারসান নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছে। এমনকি চাপে ফেলে কিয়েভকে হার মানাতে পারেনি পুতিন।

ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বন্দরনগরী মারিউপোল অবরুদ্ধ করে রেখেছে রুশ বাহিনী। মস্কো চাইছে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাশিয়া পর্যন্ত একটি করিডর প্রতিষ্ঠা করতে। যার জন্য কয়েকটি শহরে তাদের নিয়ন্ত্রন ছিল জরুরী। যে অংশগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে। আর ইউক্রেনের যে অংশগুলো তারা দখল করেছে, সেগুলোর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয়া রাশিয়র প্ল্যান বির অংশ বলেও মনে করছে অনেকে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও বলছে তাদের বিশেষ সেনা অভিযানের দুটো ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য ছিল একটি পুরো ইউক্রেন এবং অন্যটি শুধুমাত্র দোনবাস। এবার ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের প্রথম ধাপ শেষ করে দোনবাস অঞ্চলকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার কথা বলছে তারা।

অভিযানের প্রাথমিক পর্যায়ের মূল উদ্দেশ্যগুলো সম্পন্ন হয়েছে। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর দিক থেকে যুদ্ধের শঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। লুহানস্কের ৯৩ শতাংশ এবং দোনেস্কের ৫৪ শতাংশ মস্কোর নিয়ন্ত্রণে থাকায় দোনবাসের দিকেই মনোযোগ আমাদের।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, জোরালো প্রতিরোধের কারণে রাশিয়া ধীরগতিতে হামলা চালাচ্ছে। এমনকি ইউক্রেন সেনারা রাশিয়াকে রুখে দিতে সফল হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালাবে। নিজের ক্ষতি সীমিত করতেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে রাশিয়া।

Back to top button