দেড় মিনিটের কিলিং মিশন, টিপুর সঙ্গে গাড়িতে থাকা বন্ধুর বয়ান

মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরনে একজন হামলাকারীর এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। মাত্র দেড় মিনিটে হত্যাকারীরা কিলিং মিশন শেষ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রাজধানীর শাহজাহানপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু এবং রিকশায় থাকা সামিয়া আফরিন প্রীতি নিহত হওয়ার ঘটনা এভাবেই বর্ণনা করেছেন টিপুর সঙ্গে গাড়িতে থাকা বন্ধু ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. মিজানুর রহমান।

 বৃহস্পতিবার রাতে যখন টিপুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়, তখন গাড়ির পেছনের আসনে ছিলেন টিপুর দুই বন্ধু। টিপু গুলিবিদ্ধ হলে বাইরে নেমে আসেন তার বন্ধু মিজানুর রহমান। সেই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন তিনি ।তিনি জানান, কোনো কারণে টিপু ছিলেন বেশ চিন্তিত। খুন হওয়ার আগে প্রায় ১৫ মিনিট গাড়িতে চুপচাপ ছিলেন তিনি। কথা বলেননি গাড়িতে থাকা দুই বন্ধুর সঙ্গেও।এমনকি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর সময়ও ছিলেন চুপচাপ।

বৃহস্পতিবার রাতে যখন টিপুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়, তখন গাড়ির পেছনের আসনে ছিলেন টিপুর দুই বন্ধু। টিপু গুলিবিদ্ধ হলে বাইরে নেমে আসেন তার এক বন্ধু। সেই পরিস্থিতির কথা জানান তিনি।

মিজানুর রহমান বলেন, শাহজাহানপুরে যাওয়ার সময় আমরা জ্যামে আটকে যাই। সে সময়ই হঠাৎ করে অতর্কিত এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় বৃষ্টির মতো গুলির শব্দ শুনেছি। তবে হামলাকারীদের কাউকে আমরা চিনতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমরা যখন যানজটে পড়ি তখন এলোপাতাড়ি গুলি আসতে থাকে আমাদের দিকে। তবে কে গুলি ছুড়ছিল তা আমরা দেখিনি। টিপু ভাই চালকের পাশে বসা ছিলেন, আমরা পেছনে ছিলাম দুই জন। শুধু বৃষ্টির মতো গুলি আসছিল, আমরা কিছু বুঝতে পারেনি, কাউকে চিনতেও পারেনি। গাড়ির দরজার গ্লাসের ওপর দিয়ে গুলি ছুড়া হয়, গুলি গ্লাস ভেদ করে জাহিদুলকে বিদ্ধ করে। এ সময় গাড়ির চালক মুন্নার হাতেও গুলি লাগে।

তখন মুন্না এক হাতে গাড়ি চালিয়ে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে যায়, পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। এজিবি কলোনি থেকে ঘটনাস্থলে আসতে কত সময় লেগেছিল তাদের, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ৮-১০ মিনিট সময় লেগেছিল। এই সময়টাই জাহিদুল গাড়ির সামনে বসে একটি সিগারেট পান করছিলেন। তার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। কোনো কথাই বলতে পারলাম না।

টিপুকে ৪-৫ দিন আগে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল তার স্ত্রী মামলার এজাহারে বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন কিনা প্রশ্ন করা হলে মিজান বলেন, টিপুর সঙ্গে আমার কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমি তার বন্ধু, মাঝে-মধ্যে আড্ডা দিতাম একসঙ্গে। এ ধরনের কোনো কথা সে আমাকে বলেনি। কোনো সময়ই সে আমার সঙ্গে এ ধরনের কোনো কথা বলেনি। মিল্কি হত্যার সঙ্গে তার নাম জড়িত ছিল এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন কিনা প্রশ্ন করা হলে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। প্রশাসন বিষয়টা দেখছে, তারা বলতে পারবে।

এদিকে এ ঘটনায় টিপুর স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এজহারে নিহতের স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ডলি উল্লেখ করেন, আমার স্বামী মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। আমার বাবার মতিঝিল কাঁচা বাজার এলাকায় একটি রেস্টুরেন্ট আছে। আমার স্বামী রেস্টুরেন্ট দেখাশোনা করতেন। আমার স্বামী বৃহত্তর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের ১০ বছর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন দলীয়ভাবে কোন্দল ছিল। গত ৪-৫ দিন আগে আমার স্বামীকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেয়।

এজাহারে তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনের মতো গতকাল মাইক্রোবাস নিয়ে গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্নাকেসহ তিনি রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য রওনা হন। মতিঝিল এজিবি কলোনির গ্র্যান্ড সুলতান নামে রেস্টুরেন্টে কাজ শেষে বাসার উদ্দেশ্যে আসার পথে রাত আনুমানিক সোয়া দশটার দিকে শাজাহানপুর মানামা ভবনের বাটার দোকানের সামনে অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি গুলি করে এবং গুলিতে গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে যায়।

এ সময় গুলির কারণে আমার স্বামীর গলার ডান পাশে, বুকের বাম পাশে, বুকের বাম পাশের বগলের কাছাকাছি, পেটের মধ্যে নাভির নিচে, বাম কাঁধের ওপরে, পিঠের বাম পাশের মাঝামাঝি স্থানে, পিঠের বাম পাশের কোমর বরাবর, পিঠের ডান পাশের কোমরের ওপর মারাত্মক জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

Back to top button